ডিসি সম্মেলনে শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: দরিদ্র পরিবারের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা, একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদান নিশ্চিতসহ শিক্ষা খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছেন দেশের জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)।
চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন আগামী ৩ মে শুরু হয়ে ৬ মে পর্যন্ত চলবে। রাজধানীর -এ অনুষ্ঠিতব্য এই সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী । এবার প্রথমবারের মতো উদ্বোধনসহ পুরো আয়োজন একই স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনের জন্য বাছাই করে ৪৯৮টি প্রস্তাব নির্ধারণ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শিক্ষা খাতের উন্নয়নসংক্রান্ত বিষয়।
শিক্ষা খাতে ডিসিদের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশের মধ্যে রয়েছে—দরিদ্র পরিবারের সব প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, দেশের সব শিশুর জন্য একীভূত শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়নব্যবস্থা চালু করা এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য কমানো।
এ ছাড়া ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় কার্যকর শিক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ভাষায় দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা (ককবরক), গারো ও ওঁরাও (সাদরি) ভাষায় প্রাথমিক স্তরে পাঠদান চালু থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিসিরা আরও প্রস্তাব দিয়েছেন, ফরিদপুরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা, ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো এবং কওমি মাদ্রাসা স্থাপনে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা।
নিয়মানুযায়ী সম্মেলনের উদ্বোধনের পর মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সে অনুযায়ী প্রস্তাবগুলোও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক সাজানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন। ফলে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবারের সম্মেলনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

